logo

উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত: WBBSE ক্লাস 10 ইতিহাস (History)

Leave a Comment

post

এখানে (chapter 8) উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত : বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব, WBBSE ক্লাস 10 ইতিহাস (History) (Bengali medium) আধুনিক ভারতের ইতিহাস ও পরিবেশ (Adhunik Bharater Itihas O Poribesh)-এর উত্তর, ব্যাখ্যা, সমাধান, নোট, অতিরিক্ত তথ্য, এমসিকিউ এবং পিডিএফ পাওয়া যাবে। নোটগুলো শুধুমাত্র রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজনমতো পরিবর্তন করতে ভুলবেন না।

Select medium
English medium notes
Bengali medium notes
If you notice any errors in the notes, please mention them in the comments

সারাংশ (summary)

ভারত ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু এই স্বাধীনতার সাথে সাথেই অনেক বড়ো সমস্যা দেখা দেয়। এই সময়ের কথা, উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত : বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭-১৯৬৪) (Uttar-Ouponibeshik Bharat: Bish Shataker Dwitiya Parba (1947-1964)) অংশে আলোচনা করা হয়েছে। সবচেয়ে বড়ো সমস্যা ছিল দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতের সাথে যুক্ত করা। ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার সময় প্রায় ৬০০টি ছোটবড়ো রাজ্যকে স্বাধীনতা দিয়েছিল – তারা ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারত, অথবা নিজেরা স্বাধীন থাকতে পারত।

ভারত সরকার চাইল সব রাজ্য ভারতের সাথে যোগ দিক। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এই কাজের দায়িত্ব নিলেন। তিনি বেশিরভাগ রাজাকে বুঝিয়ে বা কিছুটা চাপ দিয়ে ভারতে যোগ দিতে রাজি করালেন। কিন্তু তিনটি রাজ্য – জুনাগড়, হায়দ্রাবাদ আর কাশ্মীর – প্রথমে রাজি হয়নি। জুনাগড়ে গণভোটের মাধ্যমে এবং হায়দ্রাবাদে পুলিশি ব্যবস্থা নিয়ে পরে ভারতের সাথে যুক্ত করা হয়। কাশ্মীর নিয়ে সমস্যাটা জটিল ছিল। সেখানকার রাজা ভারতে যোগ দিলেও পাকিস্তান তা মানেনি এবং সেখানে হানাদারি চালায়, যা আজও একটা সমস্যার কারণ হয়ে আছে।

দেশভাগের ফলে আর একটি বিরাট সমস্যা তৈরি হয়েছিল – উদ্বাস্তু সমস্যা। দাঙ্গার কারণে লক্ষ লক্ষ হিন্দু আর শিখ পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে আসতে বাধ্য হয়, আর অনেক মুসলমান ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে চলে যান। এই মানুষগুলো তাদের ঘরবাড়ি, সবকিছু হারিয়ে ফেলেছিল। তাদের আশ্রয় দেওয়া, খাবার দেওয়া আর নতুন করে জীবন শুরু করতে সাহায্য করা ভারত সরকারের জন্য খুব কঠিন কাজ ছিল। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম আর ত্রিপুরাতে পূর্ব পাকিস্তান (এখন বাংলাদেশ) থেকে অনেক উদ্বাস্তু এসেছিলেন, যাদের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলেছিল। সরকার তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি নামে একটি চুক্তি হয়েছিল দুই দেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার জন্য, কিন্তু তাতেও সমস্যার পুরো সমাধান হয়নি। দেশভাগের যন্ত্রণা মানুষের মনে গভীর দাগ কেটেছিল, যা তাদের জীবনকে বিষের মতো প্রভাবিত করেছিল (“বিষের মতোই ক্রিয়া করেছে” – এর মানে হল এটা খুব খারাপ প্রভাব ফেলেছিল)।

স্বাধীনতার পর ভারতে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য গঠনের দাবি ওঠে। প্রথমে সরকার রাজি ছিল না, কারণ তাদের ভয় ছিল এতে দেশের একতা নষ্ট হতে পারে। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশে তেলুগুভাষী মানুষেরা আন্দোলন শুরু করেন এবং শ্রীরামালু নামে একজন অনশন করে মারা যান। এরপর সরকার ১৯৫৩ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ গঠন করে। পরে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন তৈরি হয় এবং ১৯৫৬ সালে ভাষার ভিত্তিতে ১৪টি রাজ্য ও ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করা হয়। এর পরেও বোম্বাই রাজ্যকে ভেঙে ১৯৬০ সালে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট তৈরি করা হয়।

পাঠ্য প্রশ্ন ও উত্তর (Prantik textbook)

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো

(ক) ভারতীয় স্বাধীনতা আইন-এ দেশীয় রাজ্যগুলিকে-

(i) ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়
(ii) সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান করা হয়
(iii) পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়
(iv) স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

উত্তর: (ii) সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান করা হয়

(খ) দেশীয় রাজ্যগুলির মধ্যে যে রাজ্যটি সবার শেষে ভারতভুক্ত হয়েছিল সেটি হল-

(i) জুনাগড়
(ii) হায়দরাবাদ
(iii) কাশ্মীর
(iv) ত্রিপুরা

উত্তর: (ii) হায়দরাবাদ

(গ) নেহরু ও লিয়াকৎ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়-

(i) ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে
(ii) ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে
(iii) ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে
(iv) ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর: (ii) ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে

(ঘ) মাদ্রাজ প্রদেশের তেলেগু ভাষীদের নিয়ে যে রাজ্যটি তৈরি হয়েছিল সেটি হল-

(i) অন্ধ্রপ্রদেশ
(ii) কেরালা
(iii) মহীশূর
(iv) মহারাষ্ট্র

উত্তর: (i) অন্ধ্রপ্রদেশ

কোনটি ঠিক কোনটি ভুল লেখো

(ক) নেহরু সরকার দেশীয় রাজ্যগুলির স্বাধীন অস্তিত্ব স্বীকার করে নিয়েছিল।

উত্তর: ভুল

(খ) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বন্ধ করার ক্ষেত্রে জওহরলাল নেহরু বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

উত্তর: ঠিক

(গ) উদ্বাস্তু প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে রচিত ‘দ্যা মার্জিনাল মেন’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন হিরন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়।

উত্তর: ভুল

(ঘ) ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হয়।

উত্তর: ভুল

নীচের বিবৃতির সঙ্গে সবচেয়ে মানানসই ব্যাখ্যাটি বেছে নাও

(ক) স্বাধীন ভারতবর্ষে জাতীয় ঐক্য কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল—

ব্যাখ্যা

(i) দেশভাগের ফলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূচনা হয়েছিল।
(ii) দেশীয় রাজ্যগুলি স্বাধীনতা ঘোষণা করে স্বতন্ত্র থাকতে চেয়েছিল।
(iii) ভারতবর্ষের জাতিগত, ভাষাগত বৈচিত্র্য নানা সমস্যা তৈরি করেছিল।

উত্তর: ব্যাখ্যা (ii) দেশীয় রাজ্যগুলি স্বাধীনতা ঘোষণা করে স্বতন্ত্র থাকতে চেয়েছিল।

(খ) পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুরা মূলত পশ্চিমবঙ্গে, এবং কিছু পরিমাণে আসাম ও ত্রিপুরায় এসে আশ্রয় নিয়েছিল।—

ব্যাখ্যা

(i) অন্যান্য রাজ্যে উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়নি।
(ii) এই তিনটি রাজ্য পূর্ব পাকিস্তানের নিকটবর্তী ছিল।
(iii) ভাষাগত ঐক্যের কারণে তারা এই তিনটি রাজ্যে আশ্রয় নেয়।

উত্তর: ব্যাখ্যা (iii) ভাষাগত ঐক্যের কারণে তারা এই তিনটি রাজ্যে আশ্রয় নেয়।

(গ) দক্ষিণ ভারতের মানুষদের মধ্যে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি ছিল সবচেয়ে বেশি—

ব্যাখ্যা

(i) তারা নিজেদের মাতৃভাষাকে খুব ভালোবাসত।
(ii) দক্ষিণ ভারতের এক মাদ্রাজ প্রদেশের মধ্যেই চারটি প্রধান ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ ছিল।
(iii) তারা মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষা জানত না।

উত্তর: ব্যাখ্যা (ii) দক্ষিণ ভারতের এক মাদ্রাজ প্রদেশের মধ্যেই চারটি প্রধান ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ ছিল।

মানচিত্রে নিম্নলিখিত স্থানগুলি চিহ্নিত করো

(ক) আসাম
(খ) জুনাগড়
(গ) দেশীয় রাজ্য হায়দরাবাদ
(ঘ) পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা উদ্‌বাস্তুদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বসতিস্থান বনগাঁ।
(ঙ) পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ভারতে আসাউদ্বাস্তুদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বসতিস্থান অমৃতসর।

বামস্তম্ভের সঙ্গে ডানস্তম্ভ মেলাও
বামস্তম্ভডানস্তম্ভ
(i) দয়াময়ীর কথা(a) হায়দরাবাদ
(ii) দেশভাগের স্মৃতি(b) অন্ধ্রপ্রদেশ
(iii) নিজাম(c) অধীর বিশ্বাস
(iv) তেলেগু ভাষা(d) সুনন্দা সিকদার

উত্তর:

বামস্তম্ভডানস্তম্ভ
(i) দয়াময়ীর কথা(d) সুনন্দা সিকদার
(ii) দেশভাগের স্মৃতি(c) অধীর বিশ্বাস
(iii) নিজাম(a) হায়দরাবাদ
(iv) তেলেগু ভাষা(b) অন্ধ্রপ্রদেশ
একটি বাক্যে উত্তর দাও

ক. দেশীয় রাজ্যগুলির জন্য গঠিত মন্ত্রকে সচিব পদে কে নিযুক্ত হয়েছিলেন?

উত্তর: ভি. পি. মেননকে দেশীয় রাজ্যগুলির জন্য গঠিত মন্ত্রকের সচিব নিযুক্ত করা হয়।

খ. কার নেতৃত্ব ও বলিষ্ঠ উদ্যোগে দেশীয় রাজ্যগুলি ভারতভুক্তির চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছিল?

উত্তর: সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের নেতৃত্ব ও বলিষ্ঠ উদ্যোগে দেশীয় রাজ্যগুলি ভারতভুক্তির চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছিল।

গ. বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের কোন্ জেলা দেশীয় রাজ্য ছিল?

উত্তর: বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলা দেশীয় রাজ্য ছিল।

ঘ. কোন্ সময়কে ‘পুনর্বাসনের যুগ’ বলা হয়?

উত্তর: স্বাধীনতা লাভের পর প্রথম পাঁচবছরকে ‘পুনর্বাসনের যুগ’ বলা হয়।

ঙ. ‘উদ্বাস্তু’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

উত্তর: ‘উদ্বাস্তু’ গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন হিরন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়।

চ. কত খ্রিস্টাব্দে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের জন্ম হয়?

উত্তর: ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের জন্ম হয়।

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন

ক. স্বাধীন ভারতের সামনে কী কী সমস্যা তৈরি হয়েছিল?

উত্তর: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই আগস্ট ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু এই স্বাধীনতার আনন্দ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। স্বাধীন ভারতবর্ষের সামনে তৈরি হয় অজস্র সমস্যা। দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতে যোগদানের অনীহা, ভারতভাগের সঙ্গী হয়ে আসা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, উদ্বাস্তু সমস্যা, জাতিগত-ভাষাগত অনৈক্য-এমন নানা সমস্যায় জীর্ণ ভারতের অস্তিত্ব ও সংহতি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। অসংখ্য দেশীয় রাজ্যের ভারতভুক্তির বিষয়টি সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত ভারতের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসাবে দেখা দেয়।

খ. দেশীয় রাজ্যগুলি প্রথমে স্বাধীন ভারতে অন্তর্ভুক্ত হতে চায়নি কেন?

উত্তর: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই জুলাই-এর ‘ভারতীয় স্বাধীনতা আইন’-এ দেশীয় রাজ্যগুলিকে সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান করা হয়। বলা হয় দেশীয় রাজ্যগুলি ইচ্ছা করলে ভারত বা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। অথবা তারা স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে। এই ঘোষণার পর দেশীয় রাজাদের অনেকেই স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। জিন্নাহ দেশীয় রাজাদের মদত দিয়ে বলেন যে তাঁরা ইচ্ছা করলেই স্বাধীন থাকতে পারেন। এছাড়াও, দেশীয় রাজা ও তাদের দেওয়ানরা প্রাক্-ব্রিটিশযুগের স্বৈরাচারী শাসন ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন।

গ. ভারতভুক্তির শর্ত সম্বলিত চুক্তিপত্রে (Instrument of Accession) কী ঘোষণা করা হয়েছিল?

উত্তর: ভারতভুক্তির শর্ত সম্বলিত চুক্তি পত্রে (Instrument of Accession) দেশীয় রাজা মহারাজাদের খেতাব ও উপাধি বজায় রাখা হয়। তাদের বিশাল পরিমাণ রাজন্য ভাতা প্রদান করা হবে বলেও ঘোষণা করা হয়।

ঘ. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সম্পর্কে গান্ধিজি কী মনোভাব পোষণ করেছিলেন?

উত্তর: দেশভাগের পর যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছিল তাতে গান্ধিজি গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছিলেন। তিনি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রতিবাদে অনশন করেন। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মদিনের এক শুভেচ্ছা বাণীর উত্তরে গান্ধিজি বলেন-‘বর্বর হয়ে ওঠা মানুষের সে নিজেকে হিন্দু, মুসলিম বা যা খুশি বলুক-এই কষাইগিরির অসহায় সাক্ষী হয়ে থাকার পরিবর্তে সর্বশক্তিমানের কাছে এই প্রার্থনাই করি তিনি যেন এই ‘অশ্রুপ্লাবিত ভূমি’ থেকে আমাকে সরিয়ে নিয়ে যান।”

ঙ. ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পূর্ব পাকিস্তানের উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানের জন্য কী দাবি করেছিলেন?

উত্তর: ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পূর্ব পাকিস্তানের উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানের জন্য দাবি করেন-হয় বাংলা বিভাগ বাতিল করতে হবে, নয় পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের জন্য পূর্ব পাকিস্তানের কিছু জমি ছেড়ে দিতে হবে।

চ. স্বাধীনতা লাভের প্রথম দিকে কংগ্রেস সরকার ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি মেনে নেয়নি কেন?

উত্তর: ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে বিচারপতি এস. কে. ডর -এর নেতৃত্বে গঠিত কমিশন ভাষাভিত্তিক প্রদেশ গঠনের বিরোধিতা করে। কমিশনের বক্তব্য ছিল ভাষাভিত্তিক রাজ্য বিভাজনে প্রাদেশিক জটিলতা দেখা দেবে এবং জাতীয় ঐক্য বিঘ্নিত হবে। পরে ১৯৪৮-এর শেষে নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেল ও কংগ্রেস সভাপতি পট্টভি সীতারামাইয়াকে নিয়ে গঠিত কমিটিও ঐক্য, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের বিপক্ষেই রিপোর্ট দেন।

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন

ক. ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ‘ভারতীয় স্বাধীনতা আইন’-এ দেশীয় রাজ্যগুলি সম্পর্কে কী বলা হয়েছিল?

উত্তর: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই জুলাই-এর ‘ভারতীয় স্বাধীনতা আইন’-এ দেশীয় রাজ্যগুলিকে সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান করা হয়। বলা হয় দেশীয় রাজ্যগুলি ইচ্ছা করলে ভারত বা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। অথবা তারা স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে। কিন্তু ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ঘোষণার সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এটলী এও জানিয়েছিলেন যে ব্রিটিশ সরকার দেশীয় রাজ্যগুলির স্বাধীন অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেবে না। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও স্বীকৃতির দাবি সমর্থন করবে না। ব্রিটিশ সরকার আশা পোষণ করেন যে-‘সব কটি রাজ্যই যথাকালে ব্রিটিশ কমনওয়েলথের অন্তর্গত কোনও না কোনও ডোমিনিয়নে তাদের যথাযোগ্য স্থান খুঁজে নেবে।’

খ. দেশীয় রাজ্যগুলিকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে কী কী পদ্ধতি গৃহীত হয়েছিল?

উত্তর: ভারতের সঙ্গে দেশীয় রাজ্যগুলিকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সরকার তিনটি নীতি গ্রহণ করে। কেন্দ্রীয় সরকার শাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে দেশীয় রাজ্যগুলিকে যুক্ত করা, বা কাছাকাছি প্রদেশগুলির সঙ্গে তাদের যুক্ত করা, যেমন-উড়িষ্যা ও মধ্যপ্রদেশের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির সংযুক্তি, উত্তর-প্রদেশের সঙ্গে গাড়োয়াল, রামপুর ও বেনারসের সংযুক্তি, বোম্বাইয়ের সঙ্গে দাক্ষিণাত্য ও গুজরাটের রাজ্যগুলির সংযুক্তি, কুচবিহার রাজ্যের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সংযুক্তি ইত্যাদি। কয়েকটি রাজ্যকে একত্রিত করে একটি বৃহৎ যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা। যেমন—রাজস্থানের যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি। এছাড়া হিমাচলপ্রদেশ, কচ্ছ, বিলাসপুর, ভূপাল, ত্রিপুরা ও মণিপুরকে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নিয়ে আসা হয়।

গ. ‘এক অল্প সময়ে এতো বড়ো মানবগোষ্ঠীর গৃহত্যাগের নজির পৃথিবীর ইতিহাসে পাওয়া যায় না’-দেশভাগের প্রসঙ্গে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর: দেশভাগের পর যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছিল এবং তার ফলে যে উদ্বাস্তু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল, সেই পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্যটি যথার্থ। দেশভাগ-এর সঙ্গে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূচনা হয় তা থেকে জন্ম নেয় ‘উদ্বাস্তু সমস্যা’। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক মুসলমানদের অত্যাচারে বহু হিন্দু, শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে ভারতে চলে আসতে থাকে। একইভাবে ‘পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব পাঞ্জাব থেকেও বহু মুসলমান সাম্প্রদায়িক হিন্দুদের অত্যাচারে পাকিস্তানে চলে যেতে বাধ্য হয়। এই অল্প সময়ে এত বড়ো মানবগোষ্ঠীর গৃহত্যাগের নজির পৃথিবীর ইতিহাসে পাওয়া যায় না। ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের শেষে পাকিস্তান থেকেও প্রায় ৬০ লক্ষ উদ্বাস্তু ভারতে আসে। ভারত সরকারকে এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। এদের পুনর্বাসন ও ত্রাণের ব্যবস্থা করা ছিল নেহরু সরকারের এক বড় চ্যালেঞ্জ। দেশ ভাগের পর ট্রেন বোঝাই ছিন্নমূল উদ্বাস্তু মানুষ ভারতে আসে। পথে পথে, অনাহারে এবং বিনা চিকিৎসায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সম্ভব হয় কারণ তারা পাকিস্তানে চলে যাওয়া মানুষদের জমি, সম্পত্তি দখল করে নতুন করে জীবন শুরু করে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা হয়নি কারণ সেখান থেকে মুসলমানরা তেমনভাবে দেশত্যাগ করেনি। ফলে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় বাঙালি উদ্বাস্তুদের ভিড় জমে এবং তাদের পুনর্বাসন একটি জটিল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় যা দীর্ঘকাল ধরে চলেছিল। এই পরিস্থিতি মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করে।

ঘ. টীকা লেখো: নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি।

উত্তর: ১৯৫০-এর গোড়ায় উদ্বাস্তু সমস্যা আরও প্রবল হয়ে ওঠে। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই সমস্যা সমাধানের জন্য দাবি করেন-হয় বাংলা বিভাগ বাতিল করতে হবে, নয় পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের জন্য পূর্ব পাকিস্তানের কিছু জমি ছেড়ে দিতে হবে। এই অবস্থায় ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই এপ্রিল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকৎ আলি খাঁর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি নামে পরিচিত। চুক্তি অনুযায়ী উভয় দেশই সংখ্যালঘুদের সমান অধিকার স্বীকার করে নেয়। উদ্বাস্তুরা তাদের সমস্ত অস্থাবর সম্পত্তি সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পায়। স্থাবর জমি বিক্রি করে সেই অর্থও নিয়ে যেতে পারবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া উদ্বাস্তুরা ইচ্ছা করলেই বিনা বাধায় নিজের দেশে ফিরতে পারবে বলে বলা হয়। এই চুক্তিতে এও বলা হয় যে সংখ্যালঘুমানুষরা যে যার দেশের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করবে এবং তার কাছেই প্রতিকার চাইবে। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, ডঃ ক্ষিতিশচন্দ্র নিয়োগী প্রমুখেরা এই চুক্তির বিরোধিতা করে আরও কঠোর চুক্তির দাবি করেন। বলাবাহুল্য এই চুক্তির পরেও পূর্ববঙ্গ থেকে উদ্বাস্তুদের আসা অব্যাহত থাকে।

ঙ. ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন সম্পর্কে বোম্বাই প্রদেশের মানুষরা কী দাবি করেছিলেন? তাদের দাবি কী স্বীকার করা হয়েছিল?

উত্তর: ভাষাভিত্তিক রাজ্য বিভাজনে বোম্বাই প্রদেশে ব্যাপক প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। কারণ এখানে মারাঠী ও গুজরাটি উভয় ভাষার মানুষ ছিল। তারা মারাঠী ও গুজরাটি ভাষা অধ্যুষিত স্বতন্ত্র দুটি রাজ্যের দাবি করেন। এই দাবিতে বোম্বাই প্রদেশে প্রবল গণ আন্দোলন শুরু হয়। ‘সংযুক্ত মহারাষ্ট্র সমিতি’ এবং ‘মহা গুজরাট জনতা পরিষদ’ পৃথকভাবে আন্দোলন গড়ে তোলে। এই পরিস্থিতিতে সরকার বোম্বাই প্রদেশকে ভাষার ভিত্তিতে দুটি পৃথক রাজ্যে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট নামে দুটি নতুন রাজ্য গঠিত হয়। মহারাষ্ট্রের রাজধানী হয় বোম্বাই এবং আমেদাবাদ হয় গুজরাটের রাজধানী। সুতরাং, বোম্বাই প্রদেশের মানুষদের দাবি স্বীকার করা হয়েছিল।

চ. স্বাধীনতার পরে ভাষার ভিত্তিতে ভারত কীভাবে পুনর্গঠিত হয়েছিল?

উত্তর: স্বাধীন ভারতবর্ষে ভাষাগত বৈচিত্র্য প্রাথমিকভাবে জাতীয় সংহতিকে বিপন্ন করে তোলে এবং ভাষাভিত্তিক রাজ্যগঠনের বিষয়টি গুরুতর সংকট রূপে দেখা দেয়। স্বাধীনতার আগে থেকেই ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি উঠেছিল যা স্বাধীনতার পরে আরও জোরদার হয়ে ওঠে। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে বিচারপতি এস. কে. ডর -এর নেতৃত্বে গঠিত কমিশন এবং পরে নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেল ও পট্টভি সীতারামাইয়াকে নিয়ে গঠিত জেভিপি কমিটিও জাতীয় ঐক্য, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের বিরোধিতা করে। কিন্তু দক্ষিণ ভারতে, বিশেষত মাদ্রাজ প্রদেশে যেখানে তামিল, তেলুগু, কানাড়ি, মালয়ালম ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করত, সেখানে এই দাবি জোরালো ছিল। শ্রীরামালুর মৃত্যুর পর অন্ধ্র অঞ্চলে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১লা অক্টোবর মাদ্রাজ প্রদেশের তেলুগু ভাষীদের নিয়ে স্বতন্ত্র অন্ধ্রপ্রদেশের জন্ম হয়। এই ঘটনার পর ভারতবর্ষের অন্যান্য ভাষাভাষী মানুষও ভাষাভিত্তিক রাজ্যগঠনের দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। ফলে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হয়। এই কমিশনের সুপারিশে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে ‘রাজ্য পুনর্গঠন আইন’ সংসদে পাশ হয়। এতে ১৪টি রাজ্য ও ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করার কথা ঘোষণা করা হয়। এই আইন অনুসারে রাজ্যগুলির সীমানা মূলত ভাষার ভিত্তিতে পুনর্গঠিত হয়। যেমন, হায়দরাবাদ রাজ্যের তেলেঙ্গানা অঞ্চল অন্ধ্রপ্রদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়; মালাবার জেলা, ত্রিবাঙ্কুর ও কোচিন মিলিয়ে কেরল রাজ্য তৈরি হয়; বোম্বাই, মাদ্রাজ, হায়দরাবাদ ও কুর্গ-এর কন্নড় ভাষী এলাকা মহিশূরের সঙ্গে যুক্ত হয়; কচ্ছ, সৌরাষ্ট্র এবং হায়দরাবাদের মারাঠী ভাষী এলাকা বোম্বাই-এর অন্তর্ভুক্ত হয়; বিহারের পূর্ণিয়া জেলার কিছু অংশ এবং পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। পরবর্তীতে, ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে বোম্বাই প্রদেশ ভেঙে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট রাজ্য গঠিত হয়। ১৯৪৮ ও ১৯৬৪-এর মানচিত্র দুটি তুলনা করলে বোঝা যায় যে ভাষাভিত্তিক রাজ্য বিভাজনের পর ভারতে রাজ্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ও মানচিত্র পরিবর্তিত হয়।

অতিরিক্ত (Extras)

বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQs)

১. স্বাধীন ভারতের স্বাধীনতা লাভের তারিখ কী?

ক. ১৫ অগস্ট ১৯৪৭
খ. ১৪ জুলাই ১৯৪৭
গ. ২৬ অক্টোবর ১৯৪৭
ঘ. ১৭ এপ্রিল ১৯৫০

উত্তর: ক. ১৫ অগস্ট ১৯৪৭

২. ভারতীয় স্বাধীনতা আইন প্রণীত হয়েছিল কোন দিনে?

ক. ১৪ জুলাই ১৯৪৭
খ. ১৫ অগস্ট ১৯৪৭
গ. ২৬ অক্টোবর ১৯৪৭
ঘ. ১৭ এপ্রিল ১৯৫০

উত্তর: ক. ১৪ জুলাই ১৯৪৭

৩. স্বাধীনতার সময় ভারতের দেশীয় রাজ্য সংখ্যা ছিল কত?

ক. ৬০১
খ. ৫১৪
গ. ৩৫০
ঘ. ৭২১

উত্তর: ক. ৬০১

৪. ভারতীয় স্বাধীনতা আইনে দেশীয় রাজ্যগুলোকে কী অধিকার প্রদান করা হয়েছিল?

ক. সার্বভৌম ক্ষমতা 제공
খ. নির্বাচনের অধিকার
গ. কর আহরণ অধিকার
ঘ. সশস্ত্র বাহিনী গঠন

উত্তর: ক. সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান

৫. দেশীয় রাজ্যগুলোকে কোন বিকল্পগুলো দেয়া হয়েছিল?

ক. তিনটি
খ. দুটি
গ. একমাত্র
ঘ. চারটি

উত্তর: ক. তিনটি

৬. ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এটলি কোন বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন?

ক. স্বাধীন অস্তিত্ব স্বীকৃতি দেবে না
খ. সশস্ত্র বাহিনী দেবে
গ. আর্থিক মদত দেবে
ঘ. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেবে

উত্তর: ক. স্বাধীন অস্তিত্ব স্বীকৃতি দেবে না

৭. জাতীয় কংগ্রেস স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছিল যে কোনও রাজ্য কী করতে পারবে না?

ক. বিচ্ছিন্ন হতে
খ. কর আরোপ করতে
গ. নিজে যুদ্ধ শুরু করতে
ঘ. আইনপ্রণয়ন করতে

উত্তর: ক. বিচ্ছিন্ন হতে পারবে না

৮. ‘Instrument of Accession’ চুক্তিতে কী রক্ষা করা হয়েছিল?

ক. রাজাত্ন উপাধি
খ. ভূমি অধিকার
গ. কর সুবিধা
ঘ. সেনা বাহিনী

উত্তর: ক. রাজাত্ন উপাধি বজায় রাখা

৯. জুনাগড়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় কোন মাসে?

ক. ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮
খ. জানুয়ারি ১৯৪৯
গ. অক্টোবর ১৯৪৭
ঘ. মার্চ ১৯৫০

উত্তর: ক. ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮

১০. জুনাগড় ভারতভুক্ত হয় কখন?

ক. জানুয়ারি ১৯৪৯
খ. ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮
গ. অক্টোবর ১৯৪৭
ঘ. জানুয়ারি ১৯৫০

উত্তর: ক. জানুয়ারি ১৯৪৯

১১. কাশ্মীরের Instrument of Accession স্বাক্ষরিত হয় কোন তারিখে?

ক. ২৬ অক্টোবর ১৯৪৭
খ. ১৫ অগস্ট ১৯৪৭
গ. ১৪ জুলাই ১৯৪৭
ঘ. ১৭ এপ্রিল ১৯৫০

উত্তর: ক. ২৬ অক্টোবর ১৯৪৭

১২. হায়দরাবাদে ‘রাজাকার’ বাহিনী ছিল কী ধরনের সংগঠন?

ক. মৌলবাদী মিলিশিয়া
খ. শিক্ষামূলক সংগঠন
গ. শান্তিকামী দল
ঘ. বাণিজ্য গোষ্ঠী

উত্তর: ক. মৌলবাদী মিলিশিয়া

১৩. হায়দরাবাদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের (‘Operation Polo’) সময় কোন মাসে হয়?

ক. সেপ্টেম্বর ১৯৪৮
খ. জানুয়ারি ১৯৪৯
গ. অক্টোবর ১৯৪৭
ঘ. ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮

উত্তর: ক. সেপ্টেম্বর ১৯৪৮

১৪. হায়দরাবাদ ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে যুক্ত হয় কোন তারিখে?

ক. ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০
খ. জানুয়ারি ১৯৪৯
গ. মার্চ ১৯৪৯
ঘ. জানুয়ারি ১৯৫০

উত্তর: ক. ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০

১৫. পূর্ব সীমান্ত থেকে কত লক্ষ উদ্বাস্তু এসেছিল?

ক. ১৬ লক্ষ
খ. ২০ লক্ষ
গ. ৫ লক্ষ
ঘ. ৩০ লক্ষ

উত্তর: ক. ১৬ লক্ষ

১৬. পাকিস্তান থেকে কত লক্ষ উদ্বাস্তু ভারতে আসে?

ক. ৬০ লক্ষ
খ. ৪০ লক্ষ
গ. ২০ লক্ষ
ঘ. ৮০ লক্ষ

উত্তর: ক. ৬০ লক্ষ

১৭. নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কোন তারিখে?

ক. ১৭ এপ্রিল ১৯৫০
খ. ১৭ মার্চ ১৯৫০
গ. ১৭ এপ্রিল ১৯৪৯
ঘ. ১৬ এপ্রিল ১৯৫০

উত্তর: ক. ১৭ এপ্রিল ১৯৫০

১৮. উদ্বাস্তু শিবিরে কতজন আশ্রয় গ্রহণ করেছিল?

ক. ৭০ হাজার
খ. ৫০ হাজার
গ. ১ লাখ
ঘ. ৩০ হাজার

উত্তর: ক. ৭০ হাজার

১৯. স্বাধীনতার পর প্রথম পাঁচ বছরকে কী নামে অভিহিত করা হয়?

ক. পুনর্বাসনের যুগ
খ. সংগ্রামের যুগ
গ. স্বাধীনতার যুগ
ঘ. উন্নয়নের যুগ

উত্তর: ক. পুনর্বাসনের যুগ

২০. অন্ধ্রপ্রদেশ স্থাপিত হয় কোন তারিখে?

ক. ১লা অক্টোবর ১৯৫৩
খ. ১৯শে অক্টোবর ১৯৫২
গ. ১লা অক্টোবর ১৯৫২
ঘ. ১৯শে অক্টোবর ১৯৫৩

উত্তর: ক. ১লা অক্টোবর ১৯৫৩

২১. অন্ধ্রপ্রদেশ গঠনের দাবিতে আমরণ অনশনকারী কে?

ক. শ্রীরামালু
খ. শেখ আবদুল্লা
গ. ভি. পি. মেনন
ঘ. বল্লভভাই প্যাটেল

উত্তর: ক. শ্রীরামালু

২২. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হয় কোন সালে?

ক. ১৯৫৩
খ. ১৯৫২
গ. ১৯৫৫
ঘ. ১৯৪৮

উত্তর: ক. ১৯৫৩

২৩. রাজ্য পুনর্গঠন আইন সংসদে পাশ হয় কোন মাসে?

ক. নভেम्बर ১৯৫৬
খ. অক্টোবর ১৯৫৬
গ. সেপ্টেম্বর ১৯৫৬
ঘ. ডিসেম্বর ১৯৫৬

উত্তর: ক. নভেಂಬರ್ ১৯৫৬

২৪. মহারাষ্ট্র ও গুজরাট রাজ্য গঠিত হয় কোন সালে?

ক. ১৯৬০
খ. ১৯৫৬
গ. ১৯৬৪
ঘ. ১৯৬২

উত্তর: ক. ১৯৬০

২৫. গুজরাটের রাজধানী কোনটি?

ক. আহমেদাবাদ
খ. বোম্বাই
গ. ইন্দোর
ঘ. কলকাতা

উত্তর: ক. আহমেদাবাদ

২৬. ১৯৬৪ সালের মধ্যে সংবিধানে স্বীকৃত আঞ্চলিক ভাষার সংখ্যা কত?

ক. ১৪
খ. ১৬
গ. ২২
ঘ. ১০

উত্তর: ক. ১৪

২৭. নিম্নলিখিত কোন ভাষাটি ১৯৬৪ পর্যন্ত সংবিধানে স্বীকৃত ছিল না?

ক. কোঙ্কনী
খ. গুজরাটি
গ. উর্দু
ঘ. পাঞ্জাবি

উত্তর: ক. কোঙ্কনী

২৮. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সভাপতি কে ছিলেন?

ক. ফজল আলি
খ. কে. এম. পান্নিকর
গ. হৃদয়নাথ কুঞ্জরু
ঘ. এস. কে. ডর

উত্তর: ক. ফজল আলি

২৯. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বন্ধে গান্ধিজি কী করেছিলেন?

ক. অনশন
খ. ধর্মযজ্ঞ
গ. কর্মবিরতি
ঘ. ভাষণ

উত্তর: ক. অনশন

৩০. ‘Years of Rehabilitation’ বলতে কোন বছরসমূহকে বোঝায়?

ক. ১৯৪৭–১৯৫২
খ. ১৯৪৫–১৯৫০
গ. ১৯৫২–১৯৫৭
ঘ. ১৯৫০–১৯৫৫

উত্তর: ক. ১৯৪৭–১৯৫২

প্রশ্ন ও উত্তর (Questions, Answers)

১. কতটি দেশীয় রাজ্য স্বাধীনতার সময় ভারতে ছিল?

উত্তর: ভারতের স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভারতে দেশীয় রাজ্যের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০১।

২. কাশ্মীর রাজ্যের শাসকের নাম কী ছিল?

উত্তর: কাশ্মীরের মহারাজা ছিলেন ডোগরা রাজপুত হরি সিং।

৩. কাশ্মীরের প্রধান রাজনৈতিক দলের নাম কী ছিল?

উত্তর: কাশ্মীরের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ছিল All Jammu Kashmir National Conference।

৪. কাশ্মীর রাজ্য ভারতের অন্তর্ভুক্তির চুক্তিপত্রে কখন স্বাক্ষর করে?

উত্তর: কাশ্মীর রাজ্য ২৬শে অক্টোবর ১৯৪৭ সালে ‘ভারত ভুক্তির দলিলে’ স্বাক্ষর করে সরকারিভাবে ভারত ইউনিয়নে যোগ দেয়।

৫. হায়দরাবাদ রাজ্যের শাসককে কী বলা হতো?

উত্তর: হায়দরাবাদ রাজ্যের মুসলিম শাসককে নিজাম বলা হতো।

৬. হায়দরাবাদে মৌলবাদী মুসলিম মিলিশিয়ার নাম কী ছিল?

উত্তর: হায়দরাবাদে মৌলবাদী মুসলিম মিলিশিয়ার নাম ছিল ‘রাজাকার’ বাহিনি।

৭. ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের জন্য গঠিত কমিশনের সভাপতি কে ছিলেন?

উত্তর: ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের জন্য ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে গঠিত ‘রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন’-এর সভাপতি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ফজল আলি।

৮. ‘My Reminiscences’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

উত্তর: ‘My Reminiscences’ গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন রেণুকা রায়।

৯. ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের চূড়ান্ত আইন কবে সংসদে পাশ হয়?

উত্তর: ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে ‘রাজ্য পুনর্গঠন আইন’ সংসদে পাশ হয়।

১০. শ্রীরামালু কী দাবিতে আমরণ অনশন করেছিলেন?

উত্তর: শ্রীরামালু অন্ধ্ররাজ্যের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন।

১১. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে কে কে ছিলেন?

উত্তর: রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সভাপতি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ফজল আলি এবং অন্য দুই সদস্য ছিলেন হৃদয়নাথ কুঞ্জরু এবং কে. এম. পান্নিকর।

১২. দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতভুক্ত করার ক্ষেত্রে প্যাটেল কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছিলেন?

উত্তর: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বল্লভ ভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে দেশীয় রাজ্যগুলির জন্য একটি বিশেষ মন্ত্রক গঠিত হয়। প্যাটেল দেশীয় রাজন্যবর্গের ওপর প্রবল কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেন এবং প্রয়োজনে বল প্রয়োগেরও ভয় দেখান। এর ফলে কয়েকটি রাজ্য ছাড়া বেশির ভাগ দেশীয় রাজ্যই ‘Instruments of Accession’ নামক ভারতভুক্তি দলিলে স্বাক্ষর করে ভারতভুক্তি স্বীকার করে নেয়। হায়দরাবাদের ক্ষেত্রে, প্যাটেলের নির্দেশে ১৯৪৮ এর সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনী হায়দরাবাদের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেয়।

১৩. কাশ্মীরকে নিয়ে পাকিস্তানের কী ভূমিকা ছিল?

উত্তর: পাকিস্তান প্রথম থেকেই কাশ্মীর রাজ্যটিকে তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে সচেষ্ট ছিল। মহারাজা হরি সিং যখন স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তখন পাকিস্তান কাশ্মীর রাজ্যটিকে কুক্ষিগত করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রনেতাদের সাহায্যে ও সমর্থনে উপজাতীয় হানাদার বাহিনী জম্মু-কাশ্মীরে ব্যাপক লুঠতরাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে পাকিস্তান কাশ্মীরে দখলীকৃত অঞ্চলে পাল্টা আজাদ কাশ্মীর সরকার গঠন করে। পরবর্তীকালে গণভোটের প্রস্তাব দেওয়া হলেও পাকিস্তান গণভোটের প্রথম শর্ত অনুযায়ী কাশ্মীর থেকে তার সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করতে রাজি হয়নি।

১৪. হায়দরাবাদের মুসলিম শাসক স্বাধীনতা প্রসঙ্গে কী অবস্থান নিয়েছিলেন?

উত্তর: হায়দরাবাদের মুসলিম শাসক নিজাম স্বাধীন থাকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি পাকিস্তানপন্থী মুসলিম সংগঠনের নেতা কাশিম রেজভির পরামর্শ অনুযায়ী হায়দরাবাদকে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হন। ভারত সরকার হায়দরাবাদ রাজ্যটিকে ভারতভুক্ত করার প্রস্তাব দিলে নিজাম তা অস্বীকার করেন। নিজাম একাধিক সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বাধীনতার স্বীকৃতি প্রার্থনা করেন এবং ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

১৫. জুনাগড়ের গণভোটের ফলে কী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল?

উত্তর: ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে জুনাগড়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এই গণভোটের ফলে বিপুল ভোটে রাজ্যটির ভারতভুক্তি সমর্থিত হয়।

১৬. ‘দ্য মার্জিনাল মেন’ গ্রন্থে উদ্বাস্তু জীবনের কী প্রতিফলন পাওয়া যায়?

উত্তর: অধ্যাপক প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তীর ‘দ্যা মার্জিনাল মেন’ -এ দেশভাগের ফলে ভিটে মাটি হারানো লক্ষ লক্ষ ছিন্নমূল মানুষের স্থান থেকে স্থানান্তরে ভ্রাম্যমানতার ইতিবৃত্ত পাওয়া যায়। শিয়ালদা স্টেশনের ক্যাম্পে উদ্বাস্তুদের পশুর মতো জীবন বাঁচার কথা এবং ট্রেন থেকে নেমে আসা ভিড়ের চাপে অন্তঃসত্ত্বা উদ্বাস্তু মহিলার সন্তান প্রসবের মতো নিরবচ্ছিন্ন নরক জীবনের অংশও সেখানে বর্ণিত হয়েছে, যদিও সেই মানুষেরা কেউই এমন জীবনের প্রত্যাশা করেনি।

১৭. নেহরু ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের প্রশ্নে শুরুতে কী অবস্থান নিয়েছিলেন?

উত্তর: ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য ১৯৪৮-এর শেষে নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেল ও কংগ্রেস সভাপতি পট্টভি সীতারামাইয়াকে নিয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি ঐক্য, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের বিপক্ষেই রিপোর্ট দিয়েছিল। সুতরাং, নেহরু শুরুতে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের বিরোধী ছিলেন এবং জাতীয় ঐক্য, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

১৮. উদ্বাস্তু সমস্যাকে কেন্দ্র করে কীভাবে পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী আন্দোলন গড়ে ওঠে?

উত্তর: কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা এবং ত্রাণ পর্যাপ্ত না হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের উপর চাপ বৃদ্ধি পায় এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে ওঠে। এই উদ্বাস্তু সমস্যা থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। প্রাথমিকভাবে দেশভাগে কংগ্রেসের দায়িত্ব এবং পরবর্তীকালে উদ্বাস্তুদের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার অনুভূতি বামপন্থী রাজনীতিকে শক্তিশালী করে তোলে।

১৯. ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবিতে দক্ষিণ ভারতের মানুষের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর: ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সরকারি অবস্থানের প্রবল বিরোধিতা দক্ষিণ ভারতের মানুষেরা করেছিলেন। এর কারণ ছিল মাদ্রাজ প্রদেশের মতো একটি প্রদেশের মধ্যেই তামিল, তেলুগু, কানাড়ি, মালয়ালম – এই চারটি প্রধান ভাষাগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। ফলে, তাঁদের মধ্যে ভাষাভিত্তিক রাজ্যগঠনের দাবি ছিল সবচেয়ে বেশি। এই পরিস্থিতিতে অন্ধ্র অঞ্চলের তেলুগু ভাষী মানুষ ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন এবং মাদ্রাজ প্রদেশ ভেঙে তামিল ও তেলুগু ভাষীদের জন্য পৃথক রাজ্য দাবি করেন। জনপ্রিয় স্বাধীনতা সংগ্রামী পট্টি শ্রীরামালু অন্ধ্ররাজ্যের দাবিতে আমরণ অনশন করে প্রাণ হারান, যার ফলে সমগ্র অন্ধ্রপ্রদেশ জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু হয় এবং পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এই তীব্র আন্দোলনের ফলেই কেন্দ্রীয় সরকার পৃথক অন্ধ্ররাজ্য নির্মাণে বাধ্য হয়, যা ছিল ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

২০. দেশীয় রাজ্যগুলিকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভারতের সরকার কী কী নীতি গ্রহণ করেছিল?

উত্তর: ভারতের সঙ্গে দেশীয় রাজ্যগুলিকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভারত সরকার তিনটি নীতি গ্রহণ করেছিল। প্রথমত, কেন্দ্রীয় সরকার শাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে দেশীয় রাজ্যগুলিকে যুক্ত করা। দ্বিতীয়ত, কাছাকাছি প্রদেশগুলির সঙ্গে তাদের যুক্ত করা, যেমন—উড়িষ্যা ও মধ্যপ্রদেশের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির সংযুক্তি, উত্তর-প্রদেশের সঙ্গে গাড়োয়াল, রামপুর ও বেনারসের সংযুক্তি, বোম্বাইয়ের সঙ্গে দাক্ষিণাত্য ও গুজরাটের রাজ্যগুলির সংযুক্তি, এবং কুচবিহার রাজ্যের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সংযুক্তি। তৃতীয়ত, কয়েকটি রাজ্যকে একত্রিত করে একটি বৃহৎ যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা, যেমন—রাজস্থানের যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া হিমাচলপ্রদেশ, কচ্ছ, বিলাসপুর, ভূপাল, ত্রিপুরা ও মণিপুরকে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছিল।

২১. হায়দরাবাদ রাজ্যকে ভারতভুক্ত করার ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল এবং তা কীভাবে মোকাবিলা করা হয়?

উত্তর: হায়দরাবাদ রাজ্যকে ভারতভুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা ছিল সেখানকার মুসলিম শাসক নিজামের স্বাধীন থাকার পরিকল্পনা। রাজ্যের ৮৫ ভাগ হিন্দু অধিবাসী ভারতভুক্তির পক্ষে থাকলেও, নিজাম পাকিস্তানপন্থী মুসলিম সংগঠন ‘মজলিস-ইত্তেহাদ-উল-মুসলিমিন’-এর নেতা কাশিম রেজভির পরামর্শে হায়দরাবাদকে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হন। ভারত সরকারের ভারতভুক্তির প্রস্তাব তিনি অস্বীকার করেন। নিজামের প্ররোচনায় মৌলবাদী মুসলিম মিলিশিয়া ‘রাজাকার’ বাহিনী হায়দরাবাদে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। নিজাম একাধিক সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বাধীনতার স্বীকৃতি প্রার্থনা করেন এবং ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকেন ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কাছে অভিযোগও দায়ের করেন।

এই প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করার জন্য সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের নির্দেশে ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনী হায়দরাবাদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। সেখানে গণভোট অনুষ্ঠিত হলে প্রজারা ভারতভুক্তির সমর্থনে রায় দেয়। ফলে নিজাম বাধ্য হয়ে ‘Instrument of Accession’-এ স্বাক্ষর করেন (১৯৪৯ খ্রিঃ)। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ শে জানুয়ারি হায়দরাবাদ ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে যুক্ত হয়।

২২. কাশ্মীর সমস্যার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল এবং তার পরিণতি কী দাঁড়ায়?

উত্তর: কাশ্মীর সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল দেশীয় রাজ্যগুলির সংহতিকরণের সময়, কারণ ৮৪,৪৭১ বর্গমাইল জুড়ে অবস্থিত জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যটির চারদিকে আন্তর্জাতিক সীমানা থাকায় এর অবস্থানগত গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এই রাজ্যের শাসক হিন্দু ডোগরা রাজপুত হরি সিং হলেও রাজ্যের অধিকাংশ অধিবাসী ছিলেন মুসলমান। পাকিস্তান প্রথম থেকেই রাজ্যটিকে তার অন্তর্ভুক্ত করতে সচেষ্ট ছিল। অন্যদিকে, মহারাজা হরি সিং ‘Indian Independence Act’-এর সুযোগ নিয়ে কাশ্মীরকে স্বাধীন স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান এবং ভারত ও পাকিস্তান উভয়েরই অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব নাকচ করে দেন। কাশ্মীরের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ‘All Jammu Kashmir National Conference’-এর সভাপতি শেখ আবদুল্লা অবশ্য কাশ্মীরের ভারতভুক্তির পক্ষে ছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান কাশ্মীর রাজ্যটিকে কুক্ষিগত করার জন্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রনেতাদের সাহায্যে ও সমর্থনে উপজাতীয় হানাদার বাহিনী জম্মু-কাশ্মীরে ব্যাপক লুঠতরাজ শুরু করে, ফলে রাজ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। মহারাজা হরি সিং পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়ে ১৯৪৭ সালের ২৬শে অক্টোবর ‘ভারত ভুক্তির দলিলে’ স্বাক্ষর করে সরকারিভাবে ভারত ইউনিয়নে যোগ দেন।

এর পরিণতিতে, ভারতীয় সেনারা কাশ্মীরে এসে হানাদারদের প্রতিহত করতে সফল হয় এবং শেখ আবদুল্লার নেতৃত্বে একটি আপৎকালীন সরকার গঠিত হয়। ইতিমধ্যে পাকিস্তান কাশ্মীরের দখলীকৃত অংশে পাল্টা ‘আজাদ কাশ্মীর’ সরকার গঠন করে। ভারত ও পাকিস্তানের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ ১৯৪৮ সালের ১লা আগস্ট যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীকালে কাশ্মীরে গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি, কারণ গণভোটের প্রথম শর্তানুযায়ী পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কাশ্মীর ছেড়ে যেতে রাজি হয়নি। রাষ্ট্রপুঞ্জের একাধিকবার হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান আজও সম্ভব হয়নি এবং স্বাধীনতার এত বছর পরেও কাশ্মীর প্রসঙ্গটি ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে আছে।

২৩. উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে নেহরু সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে?

উত্তর: নেহরু সরকার উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। নেহরু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বন্ধ করার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন দাঙ্গাপ্রবণ এলাকায় সেনা নামানো হয়। সরকার দেশের সংখ্যালঘু মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষা করতেও সমর্থ হয়, যার ফলে শেষ পর্যন্ত সাড়ে চার কোটি মুসলমান এদেশে থেকে যাওয়ার মনস্থ করেন। দেশ ভাগ পরবর্তী দাঙ্গার মোকাবিলায় ভারত সরকারের, বিশেষত নেহরুর ভূমিকা দৃষ্টান্ত স্থানীয় ছিল। কংগ্রেস সরকার পূর্ব পাকিস্তানের উদ্বাস্তুদের একাংশকে পরে দণ্ডকারণ্য ও আন্দামানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যদিও বিরোধীরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি।

২৪. উদ্বাস্তু সমস্যার ক্ষেত্রে পাঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির মধ্যে কী কী পার্থক্য ছিল?

উত্তর: উদ্বাস্তু সমস্যার ক্ষেত্রে পাঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য ছিল। ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়, কারণ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুরা পাকিস্তানে চলে যাওয়া মানুষদের জমি, সম্পত্তি দখল করে নতুন করে জীবন শুরু করতে পেরেছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা হয়নি, কারণ সেখানে মুসলমানদের ব্যাপক দেশত্যাগ ঘটেনি। বাংলাভাষী উদ্বাস্তুরা মূলত পশ্চিমবঙ্গে এবং কিছু পরিমাণে আসাম ও ত্রিপুরায় এসে আশ্রয় নেয়। সংস্কৃতিগত ও ভাষাগত আত্মীয়তার কারণেই এই তিনটি স্থানে বাঙালি উদ্বাস্তুদের ভিড় জমে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা ও ত্রাণ পর্যাপ্ত না হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের উপর চাপ বৃদ্ধি পায় এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে ওঠে। এই উদ্বাস্তু সমস্যা থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে।

২৫. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সুপারিশ ও কার্যকরীকরণের বিবরণ দাও।

উত্তর: ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে কেন্দ্রীয় সরকার ‘রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন’ গঠন করে। এই কমিশনের সভাপতি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ফজল আলি এবং অন্য দুই সদস্য ছিলেন হৃদয়নাথ কুঞ্জরু এবং কে. এম. পান্নিকর। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে সেপ্টেম্বর মাসে কমিশন তার রিপোর্ট পেশ করে, যেখানে ভাষার দাবিকে মর্যাদা দিয়ে রাজ্য পুনর্গঠনের পক্ষে মত দেওয়া হয়। প্রথমে সমগ্র দেশকে ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার সুপারিশ করা হয়।

পরে এই সুপারিশে সামান্য পরিবর্তন করে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে ‘রাজ্য পুনর্গঠন আইন’ সংসদে পাশ হয়। এই আইন অনুসারে ভারতে ১৪টি রাজ্য ও ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করা হয়। এই আইন অনুসারে হায়দরাবাদ রাজ্যের তেলেঙ্গানা অঞ্চল অন্ধ্রপ্রদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়। পুরানো মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির মালাবার জেলা, ত্রিবাঙ্কুর ও কোচিন মিলিয়ে কেরল রাজ্য তৈরি হয়। বোম্বাই, মাদ্রাজ, হায়দরাবাদ ও কুর্গ-এর কন্নড় ভাষী এলাকা মহিশূরের (পরে কর্ণাটক) সঙ্গে যুক্ত হয়। কচ্ছ, সৌরাষ্ট্র এবং হায়দরাবাদের মারাঠী ভাষী এলাকা বোম্বাই-এর অন্তর্ভুক্ত হয়। বিহারের পূর্ণিয়া জেলার কিছু অংশ এবং পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়।

২৬. শ্রীরামালুর আত্মবলিদান ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে?

উত্তর: ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ১৯শে অক্টোবর জনপ্রিয় স্বাধীনতা সংগ্রামী পট্টি শ্রীরামালু অন্ধ্ররাজ্যের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন এবং অনশনরত অবস্থায় তিনি প্রাণ হারান। তাঁর মৃত্যুতে সারা অন্ধ্র জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু হয়ে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার পৃথক অন্ধ্ররাজ্য নির্মাণের দাবি মেনে নেয় এবং ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১লা অক্টোবর মাদ্রাজ প্রদেশের তেলেগু ভাষীদের নিয়ে স্বতন্ত্র অন্ধ্রপ্রদেশের জন্ম হয়।

এই ঘটনার পর ভারতবর্ষের অন্যান্য ভাষাভাষী মানুষও ভাষাভিত্তিক রাজ্যগঠনের দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের হিংসাত্মক প্রকৃতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে নেহরু ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার প্রয়োজন অনুভব করেন, যার ফলস্বরূপ ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠন করা হয়।

Ron'e Dutta

Ron'e Dutta

Ron'e Dutta is a journalist, teacher, aspiring novelist, and blogger who manages Online Free Notes. An avid reader of Victorian literature, his favourite book is Wuthering Heights by Emily Brontë. He dreams of travelling the world. You can connect with him on social media. He does personal writing on ronism.

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Only for registered users

Meaning
Tip: select a single word for meaning & synonyms. Select multiple words normally to copy text.